১.১ আল্লাহর পরিচয়

আল্লাহ তায়ালা নিজের সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে যা যা বলেছেন।
(নোট: জিব্রাইল ফেরেশতা→ হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) এর নিকট আয়াতগুলো পাঠ করে শোনাচ্ছিলেন)

𖤓بسم الله الرحمن الرحيم𖤓

সূরা বাকারা, আয়াত: ২৫৫

২৫৫.

আল্লাহ্, তিনি ছাড়া অন্য কোন ইলাহ্ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, তিনি আপন সত্তায় প্রতিষ্ঠিত, সর্বসত্তার ধারক, তাঁকে স্পর্শ করে না তন্দ্রা আর না নিদ্রা। যা কিছু আছে আসমানে আর যা কিছু যমীনে সবই তাঁর। সে কে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তিনি জানেন যা কিছু আছে তাদের সামনে এবং যা কিছু আছে তাদের পেছনে। যা তিনি ইচ্ছা করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না। তাঁর কুরসী পরিব্যাপ্ত করে রেখেছে আসমান ও যমীন। এদের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। আর তিনিই মহান, শ্রেষ্ঠ।

সূরা নিসা, আয়াত: ৮৭

৮৭.

আল্লাহ্ তিনি ছাড়া অন্য কোন ইলাহ্ নেই। তিনি কিয়ামতের দিন তোমাদের একত্রিত করবেন-ই, এতে কোন সন্দেহ নেই। কথায় আল্লাহর চাইতে কে অধিক সত্যবাদী?

সূরা রা’দ, আয়াত: ২

২.

আল্লাহ্ তিনি, যিনি উর্ধে স্থাপন করেছেন আকাশমণ্ডলী স্তম্ভ ব্যতিরেকে যা তোমরা দেখছ। তারপর তিনি সমাসীন হলেন আরশে এবং নিয়মাধীন করলেন সূর্য ও চন্দ্রকে, প্রত্যেকেই আবর্তন করে নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত। তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন সব কিছু, তিনি বিশদভাবে বর্ণনা করেন নিদর্শনসমূহ, যাতে তোমরা তোমাদের রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ সম্বন্ধে নিশ্চিত বিশ্বাস করতে পার।

সূরা ইব্রাহীম, আয়াত: ৩২, ৩৩, ৩৪

৩২

আল্লাহ্ তিনি, যিনি সৃষ্টি করেছেন আসমান ও যমীন এবং যিনি পানি বর্ষণ করেন আসমান থেকে, ফলে তা দিয়ে তিনি তোমাদের জীবিকার জন্য ফলমূল উৎপাদন করেন, আর তিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করে দিয়েছেন নৌযানকে যাতে তাঁর আদেশে তা সমুদ্রে বিচরণ করে; এবং তিনি কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন তোমাদের জন্য নদ-নদীকে।

৩৩.

আর তিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন সূর্য ও চন্দ্রকে, যারা অবিরাম নিয়মানুবর্তী এবং তিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন রাত ও দিনকে।

৩৪.

আর তিনি তোমাদের দিয়েছেন, তোমরা যা কিছু তাঁর কাছে চেয়েছ, তা থেকে। যদি তোমরা আল্লাহ্ নিয়ামত গণনা কর, তবে তার সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না। মানুষ তো অতিমাত্রায় সীমালঙ্ঘনকারী, অকৃতজ্ঞ।

সূরা তোহা, আয়াত: ৮

৮.

আল্লাহ্, তিনি ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই, তাঁর রয়েছে সুন্দর সুন্দর নামসমূহ।

সুরা নূর, আয়াত: ৩৫

৩৫.

আল্লাহ্ আসমানসমূহ ও যমীনের জ্যোতি, তাঁর জ্যোতির উপমা যেন একটি দীপাধার, যার মাঝে আছে এক প্রদীপ, প্রদীপটি একটি কাঁচের আবরণের মাঝে স্থাপিত, কাঁচের আবরণটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত, তা প্রজ্জ্বলিত করা হয় পূত-পবিত্র যায়তুন গাছের তৈল দিয়ে, যা প্রাচ্যেরও নয় পাশ্চাত্যেরও নয়, অগ্নি তাকে স্পর্শ না করলেও যেন তার তৈল উজ্জ্বল আলো দিচ্ছে; জ্যোতির উপর জ্যোতি! আল্লাহ্ যাকে চান তাঁর জ্যোতির দিকে তাকে পথ দেখান। আর আল্লাহ্ উপমা দেন মানুষের জন্য এবং আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।

সূরা রূম, আয়াত: ১১, ৪০, ৪৮, ৫৪,

১১.

আল্লাহ্ আদিতে সৃষ্টি করেন, তারপর তিনি তার পুনরাবৃত্তি করবেন। অতঃপর তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

৪০.

আল্লাহ্ তিনি, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি তোমাদের রিযক দিয়েছেন, তারপর তিনি তোমাদের মৃত্যু দেবেন, তারপর তিনি তোমাদের জীবিত করবেন। তোমাদের উপাস্যদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে এ সবের কোন একটিও করতে পারে? তারা যে শির্ক করে, তা থেকে আল্লাহ্ অতি পবিত্র, অতি মহান।

৪৮.

আল্লাহ্ তিনি, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, ফলে তা মেঘমালা সঞ্চালিত করে; তারপর তিনি তাকে যেমন ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে খণ্ড-বিখণ্ড করেন; সুতরাং তুমি দেখতে পাও, তা থেকে বারিধারা নির্গত হয়। এরপর যখন তিনি তাঁর বান্দাদের মাঝে যাদের কাছে চান, তা পৌঁছে দেন, তখন তারা আনন্দিত হয়।

৫৪.

আল্লাহ্ তিনি, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন দুর্বল অবস্থায়, তারপর দুর্বলতার পরে তিনি শক্তি দান করেন, এরপর শক্তিদান করার পরে দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি সৃষ্টি করেন যা কিছু তিনি ইচ্ছা করেন, আর তিনিই সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।

সূরা সাফ্ফাত, আয়াত: ১২৬

১২৬.

আল্লাহ্, তিনি তোমাদের রব এবং তিনি রব তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃ-পুরুষদের।

সূরা যুমার, আয়াত: ৬২, ৬৩

৬২.

আল্লাহ্ সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সব কিছুর যিম্মাদার।

৬৩.

আসমান ও যমীনের কুঞ্জি তাঁরই কাছে। যারা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করে তারাইত ক্ষতিগ্রস্ত।

৪০.সূরা মু’মিন, আয়াত: ৬১, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৭, ৬৮, ৭৯

৬১.

আল্লাহ্ তিনি, যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের আরামের জন্য রাতকে এবং দিনকে করেছেন আলোকজ্জ্বল। নিশ্চয় আল্লাহ্ অতিশয় অনুগ্রহশীল মানুষের প্রতি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।

৬২.

তিনিই আল্লাহ্, তোমাদের রব, সব কিছুর স্রষ্টা; তিনি ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই, সুতরাং তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হয়ে চলেছ?

৬৩.

এরূপই তারা বিভ্রান্ত হয়, যারা আল্লাহ্ নির্দশনাবলীকে অস্বীকার করে।

৬৪.

আল্লাহ্ তিনি, যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যমীন বাসোপযোগী করে এবং আসমানকে ছাদস্বরূপ এবং তিনি তোমাদের আকৃতি দান করেছেন, পরে সুন্দর করেছেন তোমাদের আকৃতি এবং তোমাদের রিযক দিয়েছেন উত্তম বস্তু থেকে। ইনিই আল্লাহ্ তোমাদের রব। সুতরাং অতি মহান আল্লাহ্, প্রতিপালক সারা জাহানের।

৬৫.

তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই; অতএব তোমরা তাঁকেই ডাক, তাঁর প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি রব সারা জাহানের।

৬৭.

তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর শুক্রবিন্দু থেকে, তারপর আলাকা থেকে, তারপর তিনি তোমাদের বের করেন শিশুরূপে, তারপর যেন তোমরা উপনীত হও যৌবনে, তারপর যেন তোমরা হও বৃদ্ধ। আর তোমাদের মাঝে কেউ এর আগেই মারা যায় এবং যেন তোমরা নির্ধারিত কাল পর্যন্ত পৌঁছে যাও, যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পার।

৬৮.

তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দেন; আর যখন তিনি কোন কিছু করতে চান, তখন তিনি তার জন্য কেবল বলেন, ‘হও’, অমনি তা হয়ে যায়।

৭৯.

আল্লাহ তিনি, যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু, যাতে তোমরা তার কতকের উপর আরোহন কর এবং কতক আহার কর।

সূরা শূরা, আয়াত: ১৭

১৭.

আল্লাহ্ তিনি, যিনি সত্যসহ নাযিল করেছেন কিতাব ও তুলাদণ্ড। আর কিসে তোমাকে জানাবে যে, সম্ভবত কিয়ামত আসন্ন?

সূরা তালাক, আয়াত: ১২

১২.

আল্লাহ্ তিনি, যিনি সৃষ্টি করেছেন সাত আসমান এবং অনুরূপভাবে পৃথিবীও। এদের মধ্যে নেমে আসে আল্লাহর নির্দেশ, যাতে তোমরা জানতে পার যে, নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান; আর আল্লাহ্ অবশ্যই সব কিছুকে জ্ঞানে পরিবেষ্টন করে আছেন।

১১২.সূরা ইখলাস, আয়াত: ১, ২, ৩, ৪

বল, ‘তিনিই আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়,

‘আল্লাহ্ কাহারও মুখাপেক্ষী নহেন, *সকলেই তাঁহার মুখাপেক্ষী;

‘তিনি কাহাকেও জন্ম দেন নাই এবং তাঁহাকেও জন্ম দেওয়া হয় নাই,

‘এবং তাঁহার সমতুল্য কেহই নাই।


অনুবাদ: ইসলামিক ফাউন্ডেশন
(অনুরোধ: যদি কোন ভুল চোখে পড়ে দয়া করে কমেন্টে জানাবেন)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logic Tv (বাংলা)

Quick Links

Contacts

You can let us know any comments, questions or suggestions through the following:

© 2026 Logic TV — All Rights Reserved.