আলহামদুলিল্লাহ-এর অর্থ
আমরা সবাই খুশি হলে বলি “আলহামদুলিল্লাহ”। এটি ইসলামে খুবই পরিচিত একটি শব্দ। এর অর্থ হলো:
“সমস্ত প্রশংসা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য।”
অর্থাৎ, যখন আমরা ভালো কিছু পাই বা করি, আমরা তা আল্লাহর কাছে ধন্যবাদ ও প্রশংসা হিসেবে সমর্পণ করি। কিন্তু এখানে একটি জটিল প্রশ্ন জন্মায় – পৃথিবীতে খারাপ কাজগুলো যেমন চুরি-ডাকাতি, খুন-খারাপি, প্রতারণা, লোভ-লালসা ইত্যাদি কেন আল্লাহর ক্রেডিটে যায় না?
মানুষের ভালো ও মন্দ কাজ
ধরা যাক, মানুষ ভালো কাজ করে। যেমন – দান, সাহায্য, সততা। তখন আমরা বলি, “আলহামদুলিল্লাহ”, কারণ আল্লাহ তাকে ভালো কাজ করার জন্য ক্ষমতা দিয়েছেন – যেমন হাত, পা, চোখ, কান, মস্তিষ্ক, চিন্তা করার ক্ষমতা। এগুলো আল্লাহর অনুগ্রহ। তাই এই ভালো কাজের ক্রেডিট আল্লাহও পান।
কিন্তু মানুষ যদি খারাপ কাজ করে, যেমন অন্যকে ঠকানো, হত্যা করা, লোভ-লালসার কারণে প্রতারণা করা, তাহলে এর দায় কার? অবশ্যই মানুষের নিজস্ব দায়িত্ব। আল্লাহ এখানে কারো উপর জোর প্রয়োগ করেন না।
সরাসরি বলতে গেলে, ভালো ও মন্দ কাজের দায়িত্ব মূলত মানুষেরই। স্রষ্টা এখানে ন্যায়-অন্যায় বা দোষ-অপরাধে সরাসরি অংশ নেন না।
উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা
এটি বোঝার জন্য একটি বাস্তবসম্মত উদাহরণ নেওয়া যাক:

ডুবে যাওয়া জাহাজের উদাহরণ
ধরে নিন, একটি জাহাজ গভীর সমুদ্রে ডুবে গেছে।
সেখানে কোনো ডুবুরি মানুষগুলোকে উদ্ধার করতে পারছে না। এখন আপনার কাছে একটি বিশেষ যন্ত্র আছে, যা দিয়ে যে কেউ নিরাপদে ডুবে যাওয়া মানুষকে উদ্ধার করতে পারে।
আপনি যন্ত্রটি বানালেন। একজন ডুবুরি সেই যন্ত্র ব্যবহার করে মানুষগুলোকে উদ্ধার করতে শুরু করল।
ধরে নিন, সবাইকে বাঁচানো হলো, কিন্তু একজন ব্যক্তি যিনি তার দীর্ঘদিনের শত্রু, সে মারা যায়। কারণ ডুবুরির হিংসার কারণে সে ওই ব্যক্তিকে সাহায্য করেনি।
প্রশ্ন হলো – এই পুরো ঘটনায় আপনার দায় কতটুকু?
- আপনি যে যন্ত্র বানিয়েছেন, তার জন্য পুরো ক্রেডিট আপনার। যদি যন্ত্র না থাকত, কেউ বাঁচত না।
- ডুবুরির হিংসা এবং একজন লোককে বাঁচাতে না পারা – এটা সম্পূর্ণ ডুবুরির দায়।
ঠিক একইভাবে, আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন ভালো কাজ করার জন্য সমস্ত ক্ষমতা দিয়ে – হাত, পা, চোখ, কান, মস্তিষ্ক, চিন্তা করার ক্ষমতা এবং স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি।
মূল ব্যাখ্যা
- ভালো কাজের ক্রেডিট – আল্লাহও পান, কারণ তিনি মানুষের জন্য সক্ষমতা, সামর্থ্য ও সুযোগ দিয়েছেন।
- মন্দ কাজের দায় – পুরোপুরি মানুষ নিজের। আল্লাহ কারো উপর জোর প্রয়োগ করেন না।
এটি আমাদের শেখায় যে:
- ভালো কাজের জন্য মানুষকে প্রশংসা করা উচিত, তবে আল্লাহকে ধন্যবাদ দেওয়া অবশ্যই জরুরি।
- মন্দ কাজের দায় কোনোভাবেই আল্লাহর নয়। এটি সম্পূর্ণ মানুষের নিজের।
সংক্ষেপে মূল যুক্তি
- ভালো কাজ: আল্লাহর দান + মানুষের প্রয়াস → আল্লাহ ও মানুষ উভয়ই প্রশংসার যোগ্য।
- মন্দ কাজ: কেবল মানুষের ইচ্ছা ও কর্মকাণ্ড → মানুষের দায়ভার।
- মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা হলো মূল চাবিকাঠি।
উপসংহার
এই ব্যাখ্যা আমাদেরকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়:
- আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা থাকা উচিত সব ভালো কাজের জন্য।
- নিজের মন্দ কাজের দায় স্বীকার করা এবং সেগুলো থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য।
মৌলিকভাবে বলা যায়, আল্লাহ মানুষের জন্য সুযোগ, ক্ষমতা এবং ইচ্ছাশক্তি দিয়েছেন। মানুষই নিজস্ব ইচ্ছায় ভালো বা মন্দ কাজ করে। তাই আমাদের দায়িত্ব হলো ভালো কাজ করা, মন্দ থেকে বিরত থাকা, এবং সব ভালো কাজের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করা।





