কোরআনে ভূবিজ্ঞান: পর্বতসমূহ পেরেকের ন্যায় — আধুনিক ভূতত্ত্বের আলোকে এক চমৎকার সত্য

(Quran and Geology: Mountains as Pegs)

ভূমিকা

পৃথিবীর গঠন, স্থিতিশীলতা এবং পর্বতমালার ভূমিকা সম্পর্কে আধুনিক ভূবিজ্ঞান আজ যে তথ্য দিয়েছে, কোরআন তা ১৪০০ বছর আগেই উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে পর্বতকে ‘পেরেক’ (Awtaad) বর্ণনা করা—এটি আধুনিক গবেষণার সঙ্গে বিস্ময়করভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

পর্বতগুলো পেরেকের ন্যায় — ভূবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সত্য কী?

ভূতত্ত্বে সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, পর্বতমালা শুধু উপরের দিকে উঁচু নয়; বরং এগুলোর একটি বিশাল “মূল অংশ” গভীর ভূস্তরে পোঁতা থাকে—যেমন পেরেক মাটিতে প্রবেশ করে কাঠ বা তাঁবুকে ধরে রাখে।

ভূত্বক এবং পৃথিবীর অভ্যন্তর

পৃথিবীর যে স্তরটিতে আমরা বাস করি তাকে বলা হয় ভূত্বক (Crust)।

  • পৃথিবীর ব্যাসার্ধ: ৩,৭৫০ মাইল
  • ভূত্বকের গড় পুরুত্ব: ১–৩০ মাইল, অর্থাৎ এটি অত্যন্ত পাতলা
  • এর নিচে রয়েছে উত্তপ্ত তরল স্তর, যেখানে স্থায়িত্ব খুবই কম

এই পাতলা ভূত্বক সহজেই নড়াচড়া করতে পারে। পর্বতসমূহ এই নড়াচড়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

পর্বত কীভাবে পেরেকের মতো কাজ করে?

পর্বত ভূস্তরের ভাঁজ/বক্রতা (Folding) থেকে সৃষ্টি হয়।
এই ভাঁজের কারণে পৃথিবীর স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পর্বতের গভীর “মূল” বড় ভূমিকা পালন করে।

পর্বত

ভূতত্ত্ববিদ ফ্রাঙ্ক প্রেসের ব্যাখ্যা

বিশ্বখ্যাত ভূতত্ত্ববিদ ড. ফ্রাঙ্ক প্রেস, যিনি আমেরিকার Academy of Sciences–এর ১২ বছরের সভাপতি এবং প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের বিজ্ঞান উপদেষ্টা ছিলেন, তার বিখ্যাত বই ‘Earth’–এ বলেছেন:

➡ পর্বত হলো এক বিশাল গোঁজ (peg) যার

  • খুব ছোট অংশ উপরে দৃশ্যমান
  • বৃহৎ মূল অংশ গভীর ভূস্তরে প্রবেশ করে পৃথিবীকে স্থিতিশীল রাখে

ঠিক এ বিবরণই কোরআনে রয়েছে।

কোরআনে পর্বতের ভূমিকা — আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে সামঞ্জস্য

১. পর্বতকে পেরেকের মতো বর্ণনা

সূরা নাবা ৭–৮:


অর্থ: “আমি কি ভূমিকে বিস্তৃত শয্যা এবং পর্বতমালাকে পেরেকস্বরূপ সৃষ্টি করিনি?”

এখানে আওতাদ শব্দের অর্থ—পেরেক, খুঁটি বা তাঁবুর খুঁটি, যা গভীরভাবে প্রোথিত থাকে।

২. পৃথিবীকে দোলা খাওয়া থেকে রক্ষা

সূরা আম্বিয়া: ৩১


অর্থ: “আমি পৃথিবীতে দৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছি, যাতে তা তাদের নিয়ে কাঁপতে না পারে।”

এ আয়াতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, পর্বত পৃথিবীর স্থিরতার জন্য সৃষ্টি।

পর্বত

পর্বতগুলো কীভাবে স্থিতিশীলতা আনে?

পৃথিবীর ভূত্বক অনেকগুলো টেকটোনিক প্লেটে বিভক্ত।

  • সমুদ্রের নিচে প্লেটের পুরুত্ব: ৫ কিমি
  • স্থলভাগে: ৩৫ কিমি
  • পর্বত অঞ্চলে: ৮০ কিমি পর্যন্ত

এই গভীর ভিত্তির ওপরই পর্বতমালা দাঁড়িয়ে থাকে।

কোরআনের আরেকটি বর্ণনা

সূরা নাযিয়াত: ৩২


অর্থ: “এবং পর্বতমালাগুলোকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।”

এ আয়াতে পর্বতের শক্ত ভিত্তি (Deep root) বর্ণনা করা হয়েছে, যা আধুনিক বিজ্ঞান সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করেছে।

উপসংহার

কোরআনে পর্বতকে পেরেক, স্থিরতা প্রদানকারী, এবং দোলন থেকে রক্ষাকারী হিসেবে যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, আধুনিক ভূ-বিজ্ঞান সেই সত্যকে শতভাগ সমর্থন করে।

পর্বত শুধু উপরের সৌন্দর্য নয়—গভীরে প্রবেশ করা তাদের মূল পৃথিবীর স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© 2025 Logic TV — All Rights Reserved.