প্রশ্নঃ
বিজ্ঞান বলে—আমরা যা ভক্ষণ করি, তার প্রভাব আমাদের শরীর ও মনের উপর পড়ে। খাদ্যাভ্যাস মানুষের স্বভাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তা হলে প্রশ্ন হলো—মাংস ভক্ষণ মানুষকে হিংস্র করে তোলে, এই ধারণা থাকা সত্ত্বেও ইসলাম কেন মাংস খাওয়ার অনুমতি দিয়েছে?
এই লেখায় আমরা ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি, কুরআন-হাদীসের দলিল এবং যুক্তিভিত্তিক ব্যাখ্যা তুলে ধরবো।
ইসলামে মাংস ভক্ষণ: সীমা ও শর্ত
ইসলাম কখনোই অবাধ ও নির্বিচার ভক্ষণকে উৎসাহ দেয়নি। বরং কোনটি উপকারী (তাইয়্যিব) এবং কোনটি ক্ষতিকর (খাবীস)—এই মানদণ্ডের ভিত্তিতেই হালাল ও হারাম নির্ধারণ করেছে।

১. তৃণভোজী প্রাণীর মাংস কেন হালাল?
ইসলামে সাধারণত তৃণভোজী ও শান্ত স্বভাবের প্রাণীর মাংস ভক্ষণ করার অনুমতি রয়েছে। যেমন—
- গরু
- মহিষ
- ছাগল
- ভেড়া
- উট
এই প্রাণীগুলো স্বভাবে শান্ত, নির্দয় বা হিংস্র নয়। যুক্তিভিত্তিকভাবে বলা যায়, যে প্রাণীর খাদ্য ও স্বভাব শান্ত, তার মাংসও মানুষের উপর নেতিবাচক মানসিক প্রভাব ফেলে না।

অন্যদিকে, বাঘ, সিংহ, চিতাবাঘের মতো হিংস্র ও মাংসাশী প্রাণীর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে—কারণ এগুলোর স্বভাব হিংস্র, আক্রমণাত্মক ও নির্মম।
২. কুরআনের সুস্পষ্ট ঘোষণা
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে স্পষ্টভাবে হালাল ও হারামের নীতিমালা ঘোষণা করেছেন—
অর্থ:
“তিনি তাদের সৎ কাজের আদেশ দেন, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করেন এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন।”
(সূরা আল-আ‘রাফ: ১৫৭)
👉 এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়—ইসলামে যা হালাল, তা মানুষের শারীরিক ও মানসিক কল্যাণের জন্যই হালাল।
৩. হাদীসের আলোকে কোন প্রাণীর মাংস হারাম
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ কিছু প্রাণীর মাংস ভক্ষণ নিষিদ্ধ করেছেন।
নিষিদ্ধ প্রাণীর শ্রেণি

(i) সূচালো দাঁতবিশিষ্ট মাংসাশী জন্তু
যেসব বন্য জন্তুর দাঁত সূচালো এবং যারা শিকার করে খায়, যেমন—
- বাঘ
- সিংহ
- চিতাবাঘ
- নেকড়ে
- কুকুর
- হায়না
(ii) থাবা ও নখ দিয়ে শিকার করে এমন পাখি
যেমন—
- চিল
- বাজ
- শকুন
- শিকরা
(iii) সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী
যেমন—
- সাপ
- টিকটিকি
এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে মূল কারণ হলো—এই প্রাণীগুলোর স্বভাব, খাদ্যাভ্যাস ও জীববৈশিষ্ট্য মানুষের জন্য ক্ষতিকর।
ইসলাম কি মানুষকে হিংস্র হতে শেখায়?
❌ না। বরং ইসলাম—
- সংযম শেখায়
- খাদ্যে সীমা নির্ধারণ করে
- আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়
মাংস ভক্ষণ নয়, বরং অতিরিক্ত ভোগ, অবিচার, জুলুম ও আত্মসংযমের অভাবই মানুষকে হিংস্র করে তোলে।
উপসংহার
👉 ইসলাম মাংস ভক্ষণকে অনুমতি দিয়েছে সীমার মধ্যে, কল্যাণের উদ্দেশ্যে এবং মানুষের প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।
👉 হিংস্রতা জন্মায় খাদ্য থেকে নয়, বরং নৈতিকতা ও নিয়ন্ত্রণহীন প্রবৃত্তি থেকে।
👉 কুরআন ও হাদীসের আলোকে ইসলাম একটি পরিপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা।





