আল্লাহ কি কখনো মিথ্যা কথা বলেন?

সংশয় ডটকমের একটি লেখার জবাব
শিরোনাম: আল্লাহ কি কখনো মিথ্যা কথা বলেন?

সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
একবার মহানবী ﷺ ও সাহাবিরা একটি যুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখন সাহাবিদের সংখ্যা ছিল খুবই কম, কিন্তু কাফেরদের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি।

এই সময়ে আল্লাহ তায়ালা নবীকে স্বপ্নে দেখালেন যে, বিপক্ষের কাফের যোদ্ধাদের সংখ্যা অনেক কম।

কিন্তু যখন সাহাবিরা যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত হলেন, তখন তারা দেখলেন কাফেরদের সংখ্যা অনেক বেশি। তবুও, আল্লাহর সাহায্যে মুসলমানরা সেই যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেন।

আল্লাহ তায়ালা কাফেরদের সংখ্যা কম বলে উল্লেখ করেছিলেন, যাতে মুসলিমদের মনোবল অটুট থাকে — যেন তারা ভীত হয়ে পালিয়ে না যায়।

আসিফ মহিউদ্দিন এই ঘটনাকে সামনে এনে প্রশ্ন করেছেন:

১. সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাকের কেন এই মিথ্যাটি বলতে হলো, সেটি খুবই হতাশাজনক বিষয়। কারণ,
২. সর্বশক্তিমান আল্লাহ চাইলেই এক লক্ষ বা এক কোটি ফেরেশতা পাঠিয়ে কাফেরদের তুলোধোনা করে ফেলতে পারতেন। তাহলে তাঁর আর মিথ্যা বলার দরকার হতো না। কিন্তু সেটি না করে তিনি মুহাম্মদকে “মিথ্যা স্বপ্ন” দেখালেন, যেন মুহাম্মদের সাহাবিগণ যুদ্ধ করতে যান। এর অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ প্রয়োজনে মিথ্যাও বলেন!
৩. অথবা, মুহাম্মদের ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যা হয়েছিল, যা ঢাকার জন্য তিনি আল্লাহর আয়াত নামিয়ে ফেললেন!


১.

প্রথমত, আল্লাহ মিথ্যা বলেননি। এটি মহানবীর ﷺ একটি স্বপ্ন ছিল। যেখানে তিনি দেখেছিলেন কাফেরদের সংখ্যা কম। নবীদের স্বপ্ন যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ, তাই তিনি সাহাবিদের কাছে সেটি বলেন। স্বপ্নটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে, যাতে সাহাবিরা যুদ্ধে যাওয়ার আগে সাহস হারিয়ে না ফেলেন।

স্বপ্নে কিছু দেখানো আর মিথ্যা বলা এক বিষয় নয়। সত্য ঘটনা সবসময় একইভাবে উপস্থাপন করা হয় না; বরং সময়োপযোগীভাবে তা তুলে ধরা হয়।

এই ঘটনা আল্লাহ নিজেই কুরআনে বর্ণনা করেছেন—

“আর স্মরণ কর, যখন আল্লাহ তোমাকে স্বপ্নযোগে তাদের সংখ্যা অল্প দেখিয়েছিলেন। যদি তিনি তোমাকে তাদের সংখ্যা অধিক দেখাতেন, তাহলে তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলতে এবং যুদ্ধ সম্পর্কে তোমাদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হতো। কিন্তু আল্লাহ তোমাদেরকে রক্ষা করেছেন। অন্তরে যা কিছু আছে, সে সম্পর্কে তিনি অবহিত।”
সূরা আনফাল, আয়াত ৪৩

যেখানে কাফেরদের সংখ্যা ছিল ১,০০০ এবং মুসলিমদের সংখ্যা মাত্র ৩০০। আল্লাহ যদি নবীকে স্বপ্নে দেখাতেন যে কাফেরদের সংখ্যা অনেক বেশি, তাহলে মুসলিমদের সাহস হারানো স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল না কি? কেউ কেউ ভীত হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন না, এতে মুসলিমদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হতো।

আল্লাহ চেয়েছিলেন যুদ্ধটি হোক — যাতে যে ধ্বংস হবে, সে সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর ধ্বংস হয়, আর যে জীবিত থাকবে, সে সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর জীবিত থাকে।

সূরা আনফাল, আয়াত ৪২

আল্লাহ তায়ালা কেন এই কৌশলটি করেছিলেন, এখন নিশ্চয়ই বুঝতে পারলেন।


২.

এবার আসি, আল্লাহ তায়ালা চাইলেই ফেরেশতা পাঠিয়ে কাফেরদের তুলোধোনা করে ফেলতে পারতেন। তিনি সেটা না করে কৌশল করলেন কেন?

আসলে আপনি যদি বাস্তবিক চিন্তা করেন, তাহলে নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন — ১,০০০ মানুষের বিপরীতে ৩০০ জন মানুষের যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু সেটি ঘটেছিল। কিভাবে?

অবশ্যই আল্লাহ মুসলিমদের সাহায্য করেছিলেন। অধিক সংখ্যক মানুষের বিপরীতে অল্পসংখ্যক মানুষের বিজয়ের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা কাফেরদের দেখিয়েছেন যে ইসলামই সত্য।

কিন্তু যদি যুদ্ধই না হতো, মুসলিমরা যদি কাফেরদের সংখ্যা বেশি জেনে পিছু হটতো, তাহলে এই সত্য উন্মোচিত হতো না। কাফেররা কখনো অনুধাবন করতে পারতো না।


পরিশেষে, নাস্তিকদের একটি সংশয় হলো—
“মুহাম্মদের ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যা হয়েছিল, যা ঢাকার জন্য তিনি আল্লাহর আয়াত নামিয়ে ফেললেন!”

এটি নাস্তিকদের জন্য হয়তো যৌক্তিক মনে হতে পারে, কারণ তারা ইতিমধ্যেই মুহাম্মদ ﷺ-কে অবিশ্বাস করেন।

কিন্তু আমরা মুসলিমরা যেহেতু মুহাম্মদ ﷺ-কে বিশ্বাস করি, সেহেতু আমাদের এই সংশয় নেই। কারণ, মুহাম্মদ ﷺ নিজে থেকে কিছু বলতেন না।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© 2025 Logic TV — All Rights Reserved.