ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ আল-কুরআনে এমন অনেক বৈজ্ঞানিক ইশারা রয়েছে, যা আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কারের সঙ্গে মিলে যায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো— পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা পরমাণুর ধারণা।
প্রাচীন বিশ্বের অণু-তত্ত্ব (Theory of Atomism)
প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক ডেমোক্রিটাস প্রায় ২৩ শতক আগে “Theory of Atomism” ধারণাটি তুলে ধরেছিলেন। তিনি মনে করতেন—
বিশ্বের সব বস্তু অসংখ্য ক্ষুদ্র, অবিভাজ্য কণার সমষ্টি—যাকে তিনি ‘Atom’ নাম দিয়েছিলেন।
আরব বিশ্বেও একই ধারণা বিদ্যমান ছিল। তারা “যাররাহ্ (ذَرَّة)” শব্দটি ব্যবহার করত — যা বোঝাতো সবচেয়ে ক্ষুদ্র কণা।
কিন্তু সেই সময়ের মানুষ বিশ্বাস করত —
যাররাহ্ হলো এমন ক্ষুদ্র কণা, যা কখনো ভাঙা বা বিভক্ত করা সম্ভব নয়।
২০শ শতাব্দীর বিজ্ঞান যা জানালো
আধুনিক বিজ্ঞানে প্রমাণিত হলো—
✔ পরমাণু (Atom) বিভাজ্য
✔ এর ভেতরে আছে আরও ক্ষুদ্র কণা— ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন
✔ এমনকি এগুলোও ভাগ করা যায় — কোয়ার্ক পর্যন্ত
অর্থাৎ, পরমাণু কঠিন অবিভাজ্য কণা নয়—বরং আরও অনেক ক্ষুদ্র উপ-কণার সমষ্টি।
এই আবিষ্কার আধুনিক যুগেই সম্ভব হয়েছে।
কোরআনের বর্ণনা: পরমাণুর চেয়েও ক্ষুদ্র কণার অস্তিত্ব
১৪০০ বছর আগে জাহেলিয়াতপূর্ণ আরবের মানুষ জানতো না— পরমাণুর ভেতরে আরো ক্ষুদ্র কণা রয়েছে। তাদের কাছে “যাররাহ্” ছিল সীমার শেষ, যার চেয়ে ছোট কিছু আছে—এ ধারণা অসম্ভব ছিল।
কিন্তু কোরআন সেই সময়েই স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে—
অণু (যাররাহ্) থেকেও ক্ষুদ্র কণার অস্তিত্ব আছে।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
“কাফেররা বলে, আমাদের উপর কেয়ামত আসবে না। বলুন, কেন আসবে না?
আমার পালনকর্তার শপথ, অবশ্যই আসবে—
যিনি অদৃশ্য সম্পর্কে জানেন।
নভোমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডলে অণুপরিমাণ কোনো কিছুই তাঁর অজানা নয়—
না তা থেকে ছোট, না তা থেকে বড়; বরং সবই এক সুস্পষ্ট গ্রন্থে লিপিবদ্ধ।”
(সুরা সাবা ৩)
আয়াতের বৈজ্ঞানিক ইঙ্গিত
এই আয়াতে বলা হয়েছে—
✔ যাররাহ্ (অণু)
✔ এবং যা অণুর চেয়েও ছোট
✔ আর বড় — সবই আল্লাহর জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত
এটি এমন সময়ে বলা হয়েছে, যখন মানুষ পরমাণুর ভেতরের জগৎ চিন্তাই করতে পারত না।
কোরআন ও আধুনিক বিজ্ঞানের সামঞ্জস্য
আধুনিক বিজ্ঞান আজ প্রমাণ করেছে—
- পরমাণু বিভাজ্য
- এর চেয়ে ক্ষুদ্র কণা রয়েছে
- এমনকি কোয়ার্ক, লেপটন ইত্যাদি অত্যন্ত ক্ষুদ্র সাবঅ্যাটোমিক পার্টিকলও আছে
কোরআনের উক্ত আয়াতটি তাই বিজ্ঞানের এই মৌলিক সত্যের সঙ্গে অসাধারণভাবে মিলে যায়।
উপসংহার
কোরআন কোনো বিজ্ঞান-পাঠ্যবই নয়, কিন্তু এতে এমন অনেক ইঙ্গিত আছে যা মানুষের চিন্তাকে বিজ্ঞান ও জ্ঞানহীনতার অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে এসেছে।
অণুর চেয়েও ছোট কণার ধারণা কোরআন দেয়ার ১৪০০ বছর পরে বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে— যা আল-কুরআনের বৈশ্বিক সত্যতা ও আল্লাহর সর্বজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে দেয়।





