কোরআনে মানুষের সৃষ্টি সম্পর্কে যে বর্ণনাগুলি রয়েছে, আধুনিক ভ্রূণতত্ত্বের (Embryology) অগ্রগতির পর বিজ্ঞানীরা সেগুলোর সঙ্গে অসাধারণ মিল খুঁজে পেয়েছেন। এই ব্যাখ্যায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন বিখ্যাত ভ্রূণতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ডাঃ কিথ এল. মূর, যিনি কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গব্যবচ্ছেদ বিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন।

কোরআনের নির্দেশ: জ্ঞানীদের কাছে জিজ্ঞেস কর
“তোমরা যদি না জান, তবে জ্ঞানের অধিকারীদের কাছে জিজ্ঞেস কর।”
— (সূরা নাহল: ৪৩; সূরা আম্বিয়া: ৭)
আরব গবেষকদের সংগৃহীত ভ্রূণসংক্রান্ত আয়াতগুলো ড. কিথ মূরের কাছে দেওয়া হলে তিনি সেগুলো বিশ্লেষণ করে বিস্ময় প্রকাশ করেন — কোরআনের বর্ণনা আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

১. ‘আলাকাহ’ — জোঁকের মতো ঝুলে থাকা পদার্থ
কোরআন:
“তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাটবাঁধা রক্তপিণ্ড (আলাকাহ) থেকে।”
— (সূরা আলাক: ২)
আলাকাহ শব্দের তিনটি অর্থ:
- জোঁকের মতো আকৃতি
- ঝুলে থাকা বস্তু
- জমাট রক্ত বা লেগে থাকা পদার্থ
ড. কিথ মূর মাইক্রোস্কোপে মানুষের প্রাথমিক ভ্রূণ দেখেন ও জোঁকের ছবির সঙ্গে তুলনা করে হুবহু মিল পান—
✔ আকার
✔ লেগে থাকা
✔ পুষ্টি শোষণের ধরন
এটি সপ্তম শতকের আরব বিশ্বের জ্ঞানের অনেক বাইরে ছিল।

২. ভ্রূণের উৎপত্তি ‘শিরদাঁড়া ও পাঁজরের মধ্যবর্তী স্থান থেকে’
কোরআন:
“যা (তরল) বের হয় শিরদাঁড়া ও পাঁজরের মধ্যবর্তী স্থান থেকে।”
— (সূরা ত্বরিক: ৭)
🔬 আধুনিক Embryology প্রমাণ করে:
শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়ের প্রাথমিক অবস্থান বাস্তবেই মেরুদণ্ড ও পাঁজরের মাঝামাঝি এলাকায় (kidney region) থাকে। সেখান থেকেই তাদের রক্তনালী, স্নায়ু, লসিকা-নালী “উৎস” শুরু হয়—এবং পরবর্তী সময়ে নিচে নেমে যায়।
অর্থাৎ বীজের প্রকৃত শারীরবৃত্তিক উৎস এই অংশ থেকেই।

৩. “নুতফাহ” — এক ক্ষুদ্র তরলবিন্দু থেকে মানুষের সৃষ্টি
কোরআনে বহু আয়াতে আসে نُطْفَةٌ (নুতফাহ) —
অর্থ: অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিমাণ তরল, শুক্রবিন্দুর সামান্য অংশ।
আধুনিক তথ্য:
একটি ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করতে লাগে প্রায় ৩০ লক্ষে ১টি শুক্রাণু।
অর্থাৎ পুরো বীর্যের মাত্র ০.০০০০০৩% কার্যকর।
কোরআন ঠিক এ ব্যাপারটিই বলেছে।
৪. ‘সুলালাহ’ — তরল পদার্থের সারকণিকা
কোরআন:
“তিনি তার বংশধর সৃষ্টি করেছেন তরল নির্যাস (সুলালাহ) থেকে।”
— সূরা সাজদাহ: ৮
সুলালাহ মানে “উৎকৃষ্ট নির্যাস”—
বহু মিলিয়ন শুক্রাণুর মধ্যে মাত্র একটি-ই ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করতে পারে।
এটিই আলোচিত “নির্যাস”, অর্থাৎ সর্বোত্তম নির্বাচন।
৫. সংমিশ্রিত তরল (نطفة أمشاج — নুতফাহ আমশাজ)
কোরআন:
“আমরা মানুষ সৃষ্টি করেছি সংমিশ্রিত শুক্রকণার একটি বিন্দু থেকে।”
— সূরা দাহ: ২
আজকে Embryology প্রমাণ করেছে:
নারী-পুরুষ উভয়ের যৌনরস, গ্রন্থির নিঃসরণ, শুক্রাণু ও ডিম্বাণু — সব মিলেই তৈরি হয় “fertilized mixture”। কোরআন তারকেই বলেছে নুতফাহ আমশাজ।
৬. লিঙ্গ নির্ধারণ পুরুষের মাধ্যমে
কোরআন:
“তিনি সৃষ্টি করেছেন পুরুষ ও নারী স্খলিত শুক্রবিন্দু থেকে।”
— আন-নাজম: ৪৫-৪৬
আধুনিক তথ্য:
✔ X ও Y ক্রোমোজোম থাকে শুধুমাত্র পুরুষের শুক্রাণুতে
✔ ডিম্বাণুতে থাকে শুধু X
অতএব লিঙ্গ নির্ধারণকারী উপাদান পুরুষের বীর্যেই।
৭ম শতকে এটি কেউ জানত না।
বিজ্ঞানীদের মতামত
ড. কিথ মূর
- কোরআনের ভ্রূণতত্ত্ব আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ
- অনেক তথ্য তার কাছে নতুন ছিল
- ১৯৮২ সালে তাঁর বিখ্যাত বই “The Developing Human”-এ কোরআনের তথ্য সংযোজন করেন
- এই বই মেডিক্যাল টেক্সটবুক হিসেবে পুরস্কৃত হয়
ড. জুইলি সিম্পসন
- ইসলামের হাদীসসমূহ ভ্রূণতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বাস্তবতার সাথে বিস্ময়করভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ
- সপ্তম শতকের মানুষের পক্ষে এগুলো জানা অসম্ভব ছিল
ড. মূরের বিবৃতি (1981 Dammam Conference)
তিনি বলেন:
“মানব বিকাশ বিষয়ে কোরআনের বর্ণনাগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে এতটাই নির্ভুল যে এগুলো অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে মুহাম্মদ ﷺ–এর কাছে অবতীর্ণ।”





