মুসলমানরা কি কা’বার উপাসনা করে?

ইসলাম মূর্তিপূজার সম্পূর্ণ পরিপন্থী একটি ধর্ম। তবুও অনেক সময় একটি প্রশ্ন উঠে আসে—
“ইসলাম যদি মূর্তিপূজার বিরোধী হয়, তাহলে মুসলমানরা নামাযের সময় কা’বার দিকে নত হয় কেন?”

এই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য আগে একটি মৌলিক বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি:
মুসলমানরা কা’বার উপাসনা করে না; তারা উপাসনা করে একমাত্র আল্লাহ্‌ তাআলাকে।
কা’বা হলো কেবলা—অর্থাৎ নামায আদায়ের সময় মুখ করার নির্দিষ্ট দিক।

কাবাকে উপাসনা নয়, আল্লাহকে উপাসনা করা হয়।

কা’বা কী এবং কেবলা বলতে কী বোঝায়?

কা’বা মুসলমানদের জন্য একটি পবিত্র ঘর, যা আল্লাহ্‌ তাআলার নির্দেশে হযরত ইবরাহীম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.) নির্মাণ করেন।
আল্লাহ্‌ কুরআনে বলেন—

“নিশ্চয়ই মানুষের জন্য সর্বপ্রথম যে ঘর স্থাপন করা হয়েছে, তা (মক্কায়), বরকতময় ও বিশ্ববাসীর জন্য হিদায়াতস্বরূপ।”
(সূরা আলে ইমরান: ৯৬)

এ ঘরটি উপাসনার বস্তু নয়, বরং ইবাদতের দিকনির্দেশনা (কেবলা)।

ইমামহীন, একাধিক কেবলার নামাজ

১. ইসলাম ঐক্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়

ইসলাম একটি ঐক্যবদ্ধ উম্মাহ গঠনের ধর্ম।
যদি কেবলা নির্ধারিত না থাকত, তাহলে কেউ উত্তর দিকে, কেউ দক্ষিণে, কেউ পূর্ব বা পশ্চিমে মুখ করে নামায পড়ত। এতে একই আল্লাহর উপাসনাকারীদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো।

তাই আল্লাহ্‌ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন—

“সুতরাং তুমি তোমার মুখ মাসজিদুল হারামের দিকে ফেরাও।”
(সূরা আল-বাকারা: ১৪৪)

👉 কা’বার দিকে মুখ করা ঐক্যের প্রতীক, উপাসনার বস্তু নয়।

২. কা’বা একটি কেন্দ্রবিন্দু, উপাস্য নয়

প্রত্যেক ধর্ম, রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানের একটি কেন্দ্র থাকে।
ঠিক তেমনিভাবে ইসলামের ভৌগোলিক ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হলো কা’বা।

যেমন—

  • সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহগুলো ঘোরে, কিন্তু সূর্যকে কেউ উপাসনা করে না
  • জাতীয় পতাকার দিকে সম্মান দেখানো হয়, কিন্তু পতাকাকে পূজা করা হয় না

👉 কা’বার প্রতি সম্মান ≠ কা’বার উপাসনা

৩. কা’বা প্রদক্ষিণ (তাওয়াফ) আল্লাহর একত্ববাদের প্রতীক

হজ ও উমরার সময় মুসলমানরা কা’বার চারদিকে প্রদক্ষিণ করে। এটি কা’বার ইবাদত নয়, বরং আল্লাহর নির্দেশ পালন।

কুরআনে বলা হয়েছে—

“আর তারা যেন এই প্রাচীন ঘরের তাওয়াফ করে।”
(সূরা আল-হজ: ২৯)

তাওয়াফের মাধ্যমে বোঝানো হয়—

  • আল্লাহ এক
  • উপাসনার কেন্দ্র এক

৪. হযরত ওমর (রা.) ও হাজারে আসওয়াদ প্রসঙ্গ

হাজারে আসওয়াদ (কালো পাথর) সম্পর্কে দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.) বলেন—

“আমি জানি, তুমি একটি পাথর; তুমি না উপকার করতে পারো, না ক্ষতি করতে পারো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে চুম্বন করেছেন—এ কারণেই আমি তোমাকে চুম্বন করছি।”
(সহিহ বুখারি)

👉 এই হাদিস স্পষ্ট প্রমাণ করে— ইসলামে কোনো পাথর, বস্তু বা স্থানের নিজস্ব অলৌকিক ক্ষমতা নেই।

৫. কা’বার উপর দাঁড়িয়ে আজান দেওয়া হতো

মক্কা বিজয়ের দিন হযরত বিলাল (রা.) কা’বার ছাদের উপর দাঁড়িয়ে আজান দিয়েছিলেন।

যারা বলে মুসলমানরা কা’বার উপাসনা করে, তাদের জন্য প্রশ্ন—

যে বস্তুর উপাসনা করা হয়, তার উপর কি দাঁড়ানো যায়?

এ ঘটনাই প্রমাণ করে— 👉 কা’বা উপাস্য নয়, বরং একটি পবিত্র দিকনির্দেশনা।

সারসংক্ষেপ

  • মুসলমানরা কা’বার উপাসনা করে না
  • কা’বা হলো নামাযের কেবলা
  • উপাসনা একমাত্র আল্লাহ্‌ তাআলার
  • কা’বার দিকে মুখ করা ঐক্য ও শৃঙ্খলার প্রতীক
  • কুরআন ও সহিহ হাদিস এই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© 2025 Logic TV — All Rights Reserved.