ইতিহাসের যে কোনো ধর্মগ্রন্থের তুলনায় কোরআন এমন একটি গ্রন্থ যেখানে চৌদ্দশ বছর আগে বহু বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা আধুনিক যুগে এসে প্রমাণিত হয়েছে। কোরআন বিজ্ঞানবিষয়ক বই নয়; বরং এটি মানবজাতির জন্য নিদর্শনসমূহের (Signs) বই। এসব নিদর্শন মানুষকে তার সৃষ্টিকর্তা, উদ্দেশ্য ও জীবনব্যবস্থার প্রতি গভীরভাবে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করে।

আঙুলের ছাপ: কোরআনের বৈজ্ঞানিক ইঙ্গিত
আল্লাহ বলেন—
অর্থ:
“মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার অস্থিগুলো একত্রিত করতে পারব না? কখনও না, বরং আমি তো তার আঙ্গুলের ছাপও (পুনরায়) সুবিন্যস্ত করতে সক্ষম।”
— সূরা ক্বেয়ামাহ : ৩-৪
অবিশ্বাসীরা পুনরুজ্জীবন (Resurrection) অস্বীকার করে বলত— মৃত মানুষের অস্থিগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে আলাদা আলাদা ব্যক্তিকে কীভাবে শনাক্ত করা হবে?
কোরআনে এর জবাবে শুধু অস্থি একত্রিত করার কথাই নয়, বরং ব্যক্তিবিশেষের একান্ত স্বতন্ত্র পরিচয় — “আঙুলের ছাপ” — পুনর্গঠনের কথাও বলা হয়েছে।

আজ আমরা জানি—
- পৃথিবীতে দুই ব্যক্তির ফিঙ্গারপ্রিন্ট কখনও এক নয়
- স্যার ফ্রান্সিস গল্ট আধুনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণ পদ্ধতির ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেন
- বিশ্বব্যাপী অপরাধ তদন্তে ফিঙ্গারপ্রিন্টই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য শনাক্তকরণ পদ্ধতি
তাহলে প্রশ্ন—
চৌদ্দশ বছর আগে মানুষ কীভাবে জানল যে আঙুলের ছাপ ব্যক্তির একান্ত বৈশিষ্ট্য?
এর উত্তর সুস্পষ্ট— এ তথ্য একমাত্র সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকেই জানা সম্ভব।

বেদনাবোধ ত্বকেই অবস্থিত — কোরআনের অলৌকিক ইঙ্গিত
একসময় ধারণা করা হত যে ব্যথা কেবল মস্তিষ্কে অনুভূত হয়। কিন্তু আধুনিক গবেষণা বলে—
➡️ ত্বকের ভেতরেই রয়েছে বেদনাগ্রাহী কোষ (Pain receptors)
➡️ এসব রিসেপ্টর নষ্ট হলে মানুষ ব্যথা অনুভব করতে পারে না
চিকিৎসকেরা পোড়া রোগীর ক্ষেত্রে আলপিন দিয়ে চামড়ায় খোঁচা দিয়ে বোঝেন—
ত্বকের বেদনাগ্রাহী অংশ অক্ষত আছে কি না। ত্বক পুরোপুরি নষ্ট হলে রোগী ব্যথা বুঝতেই পারে না।
কোরআনে বলা হয়েছে—
অর্থ:
“আমার নিদর্শনসমূহের প্রতি যেসব লোক অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে, নিশ্চয়ই আমি তাদের আগুনে নিক্ষেপ করব। যখন তাদের চামড়াগুলো জ্বলে-পুড়ে গলে যাবে, তখন সেই স্থানে অন্য চামড়া পালটে দেব, যেন তারা আযাবের স্বাদ পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারে। বাস্তবিক আল্লাহ হলেন মহাপরাক্রমশালী এবং কুশলী।”
— সূরা নিসা: ৫৬
এই আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—
- ব্যথা অনুভূতি ত্বকে, তাই ত্বক নষ্ট হলে নতুন ত্বক সৃষ্টি করা হবে
- ব্যথা অনুভব করানোর বৈজ্ঞানিক কারণটিও এখানে উল্লেখিত
চিয়াংমাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তগাতত তেজাসেন এই বিষয়ে গভীর গবেষণা করে কোরআনের বৈজ্ঞানিক সত্যতায় বিস্মিত হন।
গবেষণা শেষে তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন—
“আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, এবং মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর রাসূল।”
উপসংহার
কোরআনে বর্ণিত বৈজ্ঞানিক নিদর্শনগুলো যদি কেবল কাকতালীয় বা অনুমান বলেও ধরে নেওয়া হয়, তাহলে তা হবে—
- সাধারণ জ্ঞানের বিরুদ্ধে
- বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতার বিরুদ্ধে
- যুক্তিবুদ্ধির বিরুদ্ধে
কোরআন বলে—
অর্থ:
“নিশ্চয়ই আকাশ ও ভূমির সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের আবর্তনে রয়েছে বোধসম্পন্ন লোকদের জন্য অসংখ্য নিদর্শন।”
— সূরা আলে ইমরান: ১৯০
অসংখ্য মানুষ কোরআনের বৈজ্ঞানিক নিদর্শন দেখে ঈমান লাভ করেছে। কারও জন্য একটি নিদর্শনই যথেষ্ট, আবার কেউ হাজার নিদর্শন দেখেও সত্য গ্রহণ করে না। কোরআনে তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে—
অর্থ:
“যারা বধির, বোবা, অন্ধ— তারা (সত্যপথে) ফিরে আসবে না।”
— সূরা বাকারা: ১৮
কোরআনের জীবনব্যবস্থা মানবজাতির জন্য সর্বোৎকৃষ্ট, কারণ এটি কোনো মানব-রচিত মতবাদ নয়; এটি স্রষ্টার পক্ষ থেকে নাজিলকৃত এক পরিপূর্ণ নির্দেশনা।





